প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি শতাব্দী নতুন নেতৃত্বের জন্ম দেয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে তরুণদের যে জাগরণ ঘটেছিল, তার প্রতিফলন আমরা দেখেছি ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এই বিপ্লবের পর ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পূর্ণ করতে যাচ্ছে তার প্রথম বছর। ‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’—এই দৃঢ় স্লোগান নিয়ে দলটি আজ রাজধানীর ধানমন্ডি আবাহনী মাঠে তাদের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) বাংলাদেশের ছাত্র ও তরুণ সমাজ রাষ্ট্রের আমূল সংস্কারের দাবি তুলে এসেছে। ১৯ শতকের গোড়ায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব—প্রতিটি আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ইনসাফ ও সুশাসন’। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের হাত ধরে এনসিপির জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যেই দলটি সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাজপথে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি এক নতুন চমক দেখিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক হিসেবে তারা ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ মোট ছয়জন প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যা দলটির গ্রহণযোগ্যতাকে প্রমাণিত করে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে ধানমন্ডি আবাহনী মাঠে মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
সম্মিলিত ইফতার: জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও শ্রমিকদের নিয়ে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
চিত্রপ্রদর্শনী ও ‘স্ট্রিট ওয়াল’: গত এক বছরের রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে একটি ধারাবাহিক প্রোমো বা স্ট্রিট ওয়াল প্রদর্শন করা হবে।
ফটো বুথ: নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জন্য থাকবে বিশেষ ফটো বুথ।
কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের পর এনসিপি সারা দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে ইফতার মাহফিল ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী:
২ মার্চ: চট্টগ্রাম; ৩ মার্চ: কুমিল্লা।
৪ মার্চ: সিলেট; ৫ মার্চ: ময়মনসিংহ।
৭ মার্চ: ফরিদপুর; ৮ মার্চ: বরিশাল।
৯ মার্চ: খুলনা; ১০ মার্চ: রাজশাহী এবং ১১ মার্চ: রংপুরে বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় এনসিপি একটি বিরল উদাহরণ, যারা বিপ্লবের মাঠ থেকে উঠে এসে দ্রুততম সময়ে সংসদীয় রাজনীতিতে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী এই নতুন বাংলাদেশে এনসিপি এখন ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ চেতনার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। এক বছরের এই সংক্ষিপ্ত পথচলায় তারা প্রমাণ করেছে যে, তারুণ্যের শক্তি ও গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট দিয়ে রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: কালবেলা অনলাইন (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), এনসিপি মিডিয়া সেল এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সংবাদ সম্মেলন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |