প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে পোস্টাল ব্যালট পেপারের নকশা এবং ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গুরুতর অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দরিদ্র ও কম শিক্ষিত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি কার্ড, ফোন নম্বর এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। বিএনপি আশঙ্কা করছে, এর মাধ্যমে জাল এনআইডি তৈরি করে ভোট জালিয়াতি করা হতে পারে এবং বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ভোটারদের অর্থ প্রদান করে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি একে ‘বেআইনি ও অনৈতিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান পোস্টাল ব্যালট পেপারের নকশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রবাসীদের কাছে পাঠানো ব্যালট পেপারে ইচ্ছাকৃতভাবে ধানের শীষ প্রতীককে নিচের সারিতে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রথম সারিতে রয়েছে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা। তিনি বলেন, "এটি কোনো দৈব ঘটনা নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ব্যালটের অবস্থান ভোটের ফলাফলে ১ থেকে ১০ শতাংশ প্রভাব ফেলতে পারে।" তিনি দাবি জানান, এখনো সময় আছে, তাই দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট বিলির আগে পুনরায় ব্যালট পেপার ছাপাতে হবে। এছাড়া ওমানে জনৈক জামায়াত কর্মীর বাসায় ব্যালট পেপার প্রাপ্তির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনাকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, নির্বাচন কমিশনের আপত্তির কারণে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত ও উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করেছেন। অথচ অন্য দলের নেতারা প্রকাশ্য প্রচারণা চালালেও কমিশন নীরব থাকছে। তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর সংগ্রাম করেছে এবং এবার জনগণের ভোটের মাধ্যমে সেই অধিকার ফিরিয়ে আনতে চায়।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ইতিহাস দীর্ঘ ও জটিল। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বর্তমান নির্বাচন পর্যন্ত বারবার ক্ষমতার পরিবর্তন ও কৌশল বদলেছে।
১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমলে সীমিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন হতো, যেখানে সাম্প্রদায়িক পরিচয় বড় হয়ে দাঁড়াত। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিজয়ই পাকিস্তানের পথ প্রশস্ত করেছিল।
১৯৫২-১৯৭১: পাকিস্তানের ২৪ বছরের ইতিহাসে দেখা গেছে নির্বাচনী কারচুপি ও ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়কে মেনে না নেওয়ার ফলেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
১৯৭৫-২০২৪: স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯১, ১৯৯৬ (জুন) ও ২০০১ সালের নির্বাচন তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য হলেও ২০০৮ পরবর্তী নির্বাচনগুলো নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি ওঠে।
২০২৫-২০২৬: ২০২৫ সাল জুড়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে ঘিরে দেশপ্রেমিক সকল শক্তির প্রত্যাশা—এবারের নির্বাচন হবে অতীতের সব কলঙ্কমুক্ত। নজরুল ইসলাম খানের অভিযোগগুলো সেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারই একটি অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: ১. বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সংবাদ সম্মেলন (গুলশান অফিস, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বিএনপির মিডিয়া সেল প্রতিবেদন (জানুয়ারি ২০২৬)। ৩. বাংলাদেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক ইতিহাস আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |