প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর কাওরান বাজারের ব্যস্ততম এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরের নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ও অপরাধ মানচিত্রে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত বুধবার রাতে স্টার কাবাবের গলিতে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। পুলিশি তদন্ত এবং স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই হত্যার মূলে রয়েছে কাওরান বাজারের বিশাল অংকের চাঁদাবাজি, গ্যারেজ দখল এবং রাজনৈতিক আধিপত্যের দীর্ঘদিনের বিরোধ।
বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে মুছাব্বির ও তার সহযোগী সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে ৪-৫ জন অস্ত্রধারী যুবক। ঘটনাস্থলেই মুছাব্বির নিহত হন এবং মাসুদ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬৫ বুলেটের তিনটি খোসা উদ্ধার করেছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, এই ঘটনার মূল হোতা হিসেবে ‘রহমান’ নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যে মূলত কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মুছাব্বির হত্যার পেছনে চারটি মূল বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করছে:
১. চাঁদাবাজি ও আধিপত্য: ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাওরান বাজারের চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে মুছাব্বিরের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। বিশেষ করে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রহমানের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য ছিল। ২. গ্যারেজ দখল: ফার্মগেট এলাকায় একটি বড় গ্যারেজ দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল, যাতে মুছাব্বিরের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। ৩. ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা: গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধনে হামলার ঘটনার প্রতিশোধ বা সেই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যোগসূত্র খুঁজছে ডিবি পুলিশ। ৪. রাজনৈতিক কোন্দল: দলীয় নির্দেশনায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে সমর্থন করা এবং অভ্যন্তরীণ দলীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে মতবিরোধও এই হত্যার পেছনে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দুই শুটারকে চিহ্নিত করেছে। এরই মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মহানগর যুবদল নেতা ফারুক হোসেন এবং ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলনসহ ৫ জনকে হেফাজতে নিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে আগামীকাল শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।
কাওরান বাজারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ সাল) এটি বাংলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
১৯৭১-২০২৪: স্বাধীনতার পর থেকে এই বাজারের নিয়ন্ত্রণ সবসময়ই ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের হাতে ছিল। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা এই ‘দখলদারিত্বের সংস্কৃতি’ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরেও পুরোপুরি দূর না হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
২০২৬-এর প্রেক্ষিত: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এ ধরনের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। সরকার সংস্কারের মাধ্যমে এই অপরাধী চক্র ও চাঁদাবাজদের নির্মূল করতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
১. ডিএমপি (DMP) প্রেস রিলিজ ও কমিশনারের বক্তব্য (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. তেজগাঁও থানা মামলা ও এজাহার রেকর্ড। ৩. যুগান্তর ও কালবেলা অনলাইন আর্কাইভ - ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট। ৪. বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর - প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |