প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনের প্রার্থী এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী তহবিলে মাত্র ২৫ ঘণ্টায় প্রায় ২২ লাখ টাকা জমা পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
লাইভে ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, রোববার রাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত মাত্র এক দিনে তার দুটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৯ টাকা এবং একটি নগদ অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯ টাকা জমা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এসেছে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৭ টাকা। এমনকি অফলাইনে তার কার্যালয়ে গিয়ে একজন সংবাদকর্মীও ২ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তহবিলে জমা হয়েছে ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
তবে এই অভাবনীয় সাড়ার পাশাপাশি ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, তার ভিডিও কপি করে ভুয়া পেজ খুলে বিকাশ ও নগদ নম্বর পরিবর্তন করে প্রতারণা করা হচ্ছে। তিনি কেবল তার নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া নম্বরেই সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ জানান এবং সংগৃহীত অর্থের পাই-পাই হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের অঙ্গীকার করেন।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে জনগণের টাকায় নির্বাচন বা 'গণচাঁদা' সংগ্রহের সংস্কৃতি খুব একটা নতুন নয়, তবে এর ডিজিটাল রূপান্তর ২০২৬ সালে এসে পূর্ণতা পেয়েছে।
১৯০০-১৯৪৭: স্বাধিকারের লড়াই: গত শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত প্রতিটি লড়াইয়ে বাংলার সাধারণ মানুষ নিজেদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন সচল রেখেছিল।
১৯৭১: স্বাধীনতার ডাক: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার এবং অভ্যন্তরীণ মুক্তিপাণ্ডবদের জন্য সাধারণ মানুষ সোনাদানা থেকে শুরু করে শেষ সম্বলটুকু দিয়ে সহায়তা করেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই অমোঘ ডাক—"তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো"—ছিল জনঅংশগ্রহণের সর্বোচ্চ উদাহরণ।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের পতনের আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল নিজেদের খরচে, যা ১৯৯১ সালে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর নির্বাচন: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিল সাধারণ মানুষের নিঃস্বার্থ সমর্থন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যারিস্টার ফুয়াদের মতো তরুণ ও পেশাজীবী নেতাদের জন্য গণচাঁদা সংগ্রহ মূলত সেই 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৭১): "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।"
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (১৯৭৮): "রাজনীতিবিদদের জন্য জনসমর্থনই শ্রেষ্ঠ সম্পদ।"
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (জানুয়ারি ২০২৬): "মানুষের এই ভালোবাসা ও আমানত আমি মরণপণ রক্ষা করব। স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো আপস হবে না।"
ড. মুহাম্মদ ইউনূস (২০২৫): "আমরা এমন এক নির্বাচনী ব্যবস্থা চাই যেখানে টাকার জোরে নয়, মানুষের ভালোবাসায় নেতা নির্বাচিত হবে।"
বরিশাল-৩ আসনে ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই 'ক্রাউডফান্ডিং' বা গণচাঁদা সংগ্রহ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ১৯০০ সাল থেকে চলা বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সংগ্রামের মূল লক্ষ্যই ছিল সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন। যখন কোনো প্রার্থী বড় কোনো শিল্পপতির দ্বারস্থ না হয়ে সরাসরি জনগণের কাছে হাত পাতেন, তখন তার দায়বদ্ধতাও জনগণের প্রতি বেড়ে যায়। তবে এর সাথে সাথে ডিজিটাল জালিয়াতি ও ফেক পেজের উপদ্রব নির্বাচন কমিশনের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং নির্বাচনী সংস্কৃতি পরিবর্তনেরও এক বড় পরীক্ষা।
সূত্র: ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের ফেসবুক লাইভ (৫ জানুয়ারি ২০২৬), এবি পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়, যুগান্তর অনলাইন এবং বিডিএস ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির নির্বাচনী মনিটরিং আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |