প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সুনামগঞ্জ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং ৩০শে ডিসেম্বর ২০২৪-এ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণের শোকাতুর পরিবেশে এই নির্বাচন বিএনপির জন্য যেমন বড় সুযোগ, তেমনি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ১১ জন নেতার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল রাজনীতিতে এখন এক বড় অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সুনামগঞ্জের রাজনীতি সবসময়ই অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫০-এর দশকে জমিদারি প্রথা বিলোপ আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন—প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল অগ্রগণ্য। ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে সুনামগঞ্জের অবদান এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫ নম্বর সেক্টরের বীরত্বগাথা আজও প্রেরণা জোগায়। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের এই নির্বাচনটি জেলাবাসীর কাছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক বিশাল পরীক্ষা।
সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে আসনভিত্তিক একাধিক প্রার্থী।
সুনামগঞ্জ-১ ও ২: এই দুটি আসনে দল থেকে দুজনকে করে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ১ আসনে আনিসুল হক ও কামরুজ্জামান কামরুল এবং ২ আসনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল উভয়েই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাখ্যা: বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) জিকে গউছ বিষয়টিকে ‘কৌশলগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের সময় দলের নির্দেশনায় একজন করে প্রার্থী প্রত্যাহার করবেন।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সুনামগঞ্জের তিনটি আসনে চারজন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, যা তৃণমূলের ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ-৩: ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন স্বতন্ত্র লড়ছেন দলীয় মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদের বিরুদ্ধে।
সুনামগঞ্জ-৪: এই আসনে সবচেয়ে বেশি নাটকীয়তা দেখা যাচ্ছে। হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এবং সাবেক হুইপ আসপিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার আবিদুল হক উভয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এখানে দলীয় টিকেট পেয়েছেন অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল।
সুনামগঞ্জ-৫: মিজানুর রহমান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের বিপরীতে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৫০ সাল পরবর্তী সময় থেকে সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে আঞ্চলিকতা এবং ব্যক্তিক ইমেজ বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে, যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে, তখন বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল বা কৌশলগত একাধিক প্রার্থী ভোটারদের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তৃণমূলের আবেগ যেখানে দলীয় ঐক্যের পক্ষে, সেখানে এই বিভাজন ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে ২১শে জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কে থাকছেন চূড়ান্ত লড়াইয়ে। তবে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার ভোটাররা এখন কেবল উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা খুঁজছেন।
সূত্রসমূহ: ১. যুগান্তর অনলাইন ও স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন (সুনামগঞ্জ)। ২. বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রাপ্ত প্রেস রিলিজ (জানুয়ারি ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাস (গুগল এনালাইসিস)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |