তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও এনসিপি-জামায়াত মেরুকরণ: ২০২৫-এর রাজনীতিতে ভাঙা-গড়ার খেলা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৫ সাল এক নতুন সমীকরণ ও আদর্শিক লড়াইয়ের বছর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, অন্যদিকে রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেতরে শুরু হয়েছে তীব্র মতবিরোধ। জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্ভাব্য নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ভিন্নমুখী অবস্থানে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেই তিনি ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ সংলগ্ন গণসংবর্ধনায় যোগ দেন এবং সেখান থেকেই প্রথমবার মাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনের মধ্যেই বাক-স্বাধীনতার এক অনন্য নজির স্থাপিত হয়েছে। শনিবার তাকে কটূক্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাথে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলটির ভেতরে বিভক্তি এখন তুঙ্গে। সদস্যসচিব আখতার হোসেন শনিবার মধ্যরাতে এক ফেসবুক বার্তায় জানান, রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ার লক্ষ্যে জামায়াতের সাথে এনসিপির কিছু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। সংস্কার প্রস্তাবনায় বিএনপি থেকে অন্যান্য দলের পার্থক্য থাকলেও এনসিপি ও জামায়াত অভিন্ন অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তবে এই সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করেছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি জামায়াতকে ‘নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়’ অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কঠোর পোস্ট দিয়েছেন। জানা গেছে, শনিবার কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ জন নেতা জামায়াতের সাথে সমঝোতার বিরোধিতা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই বর্তমান অস্থিরতা বুঝতে হলে আমাদের ফিরতে হবে ১৯৫০-এর দশকে। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত এই ভূখণ্ডের রাজনীতি ছিল শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার লড়াই। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে যে রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে সব দল এক হয়ে স্বৈরাচার পতন ঘটালেও পরবর্তী দশকগুলোতে জোট ও আদর্শিক দ্বন্দ্বে বারবার পথ হারিয়েছে গণতন্ত্র। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই পুরোনো কাঠামো ভেঙে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের স্বপ্ন দেখায়। ২০২৫ সালে এসে এনসিপির মতো নতুন দলগুলোর সংস্কারের দাবি এবং পুরোনো দলগুলোর সাথে তাদের আদর্শিক সংঘাত মূলত ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক বিবর্তনেরই একটি ধারাবাহিক অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সাথে এনসিপির এই সম্ভাব্য সমঝোতা বা বিরোধিতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলবে।
২০২৫ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এক নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে দীর্ঘদিনের নির্বাসিত নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরকার আদর্শিক লড়াই—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে। ১৯৫০-এর সেই গণতান্ত্রিক স্পিরিট ২০২৫-এর সংস্কারের মাধ্যমে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তথ্যসূত্র: ১. এনসিপির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের বিবৃতি। ২. বিএনপি মিডিয়া সেল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্র। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা (গুগল নিউজ ও বাংলাপিডিয়া আর্কাইভ ১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |