নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর পল্টনে জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল কয়েক কোটি টাকার চুক্তিতে সুপরিকল্পিত একটি কিলিং মিশন। হামলার আগের রাতেই প্রধান শুটার ফয়সাল তার বান্ধবীকে জানিয়েছিল, "পরদিন সারা দেশ কাঁপবে।"
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ঘটনার আগের রাতে (১২ ডিসেম্বর ২০২৫) শুটার ফয়সাল ও আলমগীর সাভারের ‘গ্রিন জোন’ রিসোর্টে অবস্থান করেন। সেখানে ফয়সালের কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমার উপস্থিতিতেই এই হামলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। পরদিন সকালে তারা রিসোর্ট ছেড়ে ঢাকায় এসে মিশন পরিচালনা করে। ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাদিকে লক্ষ্য করে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চালানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, মোহাম্মদপুরের এক সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন এই পুরো ঘটনার মাস্টারমাইন্ড। ওসমান হাদিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে অন্তত ২০ জনের একটি শক্তিশালী গ্রুপ কাজ করছিল। এই মিশনে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে র্যাব ও পুলিশ। শুটার ফয়সালের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া চেকে তার স্বাক্ষর মিলেছে, যা মিশন বাস্তবায়নের চুক্তির অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁও এবং নরসিংদীর তরুয়া এলাকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
২টি বিদেশি পিস্তল ও ১টি খেলনা পিস্তল।
২টি ম্যাগাজিন ও ৪১ রাউন্ড গুলি।
হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও পালানোর কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে প্রতিভাবান ও সাহসী নেতৃত্বকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। ১৯৫০-এর দশকে যখন ছাত্র সমাজ ভাষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল, তখন থেকেই অস্ত্রের ভাষায় তাদের দমনের চেষ্টা চলেছে।
১৯৫২-১৯৭১: স্বাধিকার আন্দোলনের সময় পাকিস্তান শাসকরা বারবার রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা ও গুম করার চেষ্টা করেছে।
নব্বইয়ের দশক: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নূর হোসেন থেকে শুরু করে ডা. মিলনকে প্রাণ দিতে হয়েছে রাজপথের ষড়যন্ত্রে।
২০২৪-২০২৫: ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ নতুন করে স্বাধীন হলেও পরাজিত শক্তিগুলো ২০২৫ সালে এসে আবারও ‘শুটার গ্রুপ’ ভাড়া করে রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ওসমান হাদির ওপর হামলা সেই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই একটি নতুন সংস্করণ।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সামিয়া, শ্যালক শিপু এবং বান্ধবী লিমা রয়েছেন। এ ছাড়া আদাবর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কবিরকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। কবিরই এই হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক এবং তিনি হাদির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সক্রিয় ছিলেন বলে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে গুরুতর আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষণ: ওসমান হাদির ওপর এই হামলা কেবল একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয়, এটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। কোটি টাকার চেক উদ্ধার এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে, পুরনো রাজনৈতিক অপশক্তিগুলো নতুন বাংলাদেশেও সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে। তবে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে শুটার গ্রুপের গ্রেফতার হওয়া আশার আলো দেখাচ্ছে।
সূত্র: র্যাব সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), যুগান্তর ডিজিটাল এবং ইনকিলাব মঞ্চের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |