| বঙ্গাব্দ

ধুনটে পুলিশকে কুপিয়ে পালানো আসামি গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরাও

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-07-2025 ইং
  • 7329431 বার পঠিত
ধুনটে পুলিশকে কুপিয়ে পালানো আসামি গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরাও
ছবির ক্যাপশন: ধুনটে পুলিশকে কুপিয়ে পালানো আসামি গ্রেপ্তার

ধুনটে পুলিশকে পিটিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার 'অসীম'

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | ১২ জুলাই ২০২৫, শনিবার

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দুই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে ও মারধর করে হাতকড়া পরানো অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া আসামি অসীম ওরফে সোহাগ মণ্ডলকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ধৃত অসীম (৩০) ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম গুয়াডহরী গ্রামের বাসিন্দা এবং জহুরুল ইসলামের ছেলে। শনিবার বেলা ১১টায় আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশের উপর হামলা: পলাশের মতো ঘটনা স্মরণ করালো ‘ধুনট অপারেশন’

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিলেন অসীম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ধুনট থানার এএসআই আশরাফুল ইসলাম ও কনস্টেবল আব্দুল খালেক তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরান।

কিন্তু এরপরেই ঘটে উপজেলা পর্যায়ে নজিরবিহীন ঘটনা—অসীমের মা শিউলি খাতুন ও স্ত্রী সোহানা খাতুন মিলে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হাতকড়াসহ অসীমকে ছিনিয়ে নেয়। আহত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং থানায় ফিরিয়ে আনা হয়।


পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

এই ঘটনায় এএসআই আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন—অসীম, তার মা শিউলি খাতুন ও স্ত্রী সোহানা খাতুন।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতেই শিউলি খাতুনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর অভিযুক্ত সোহানা খাতুনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম


আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের মর্যাদার প্রশ্ন

ঘটনাটি উপজেলাভিত্তিক হলেও এর গুরুত্ব জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত হওয়ার মতো। একজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে হাতকড়া অবস্থায় ছিনিয়ে নেওয়া, সেটাও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে—এটি পুলিশের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

ওসি সাইদুল আলম বলেন, “আমরা কঠোর নজরদারিতে আছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশকে মারধরের মতো ঘটনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ।”


উপসংহার: আইনের শাসনের সামনে সামাজিক প্রতিরোধ

এই ঘটনা শুধু একটি আসামিকে নিয়ে নয়—এটি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে পুলিশ বা আইনের বিরুদ্ধে দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রকাশ। যেখানে পরিবারের সদস্যরাই পুলিশকে আক্রমণ করে একজন আসামিকে ছিনিয়ে নেয়, সেখানে প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, জনগণের আইন মেনে চলার মানসিকতা—সবই প্রশ্নবিদ্ধ।

এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই মামলার তদন্ত শেষ হয় এবং অভিযুক্তদের শাস্তির মুখোমুখি করা যায়।

তথ্যসূত্র: ধুনট থানা, আদালত নথি, স্থানীয় সংবাদকর্মী
প্রতিবেদন প্রস্তুত: নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন | বগুড়া বিভাগ

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency