আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পরিচালিত ইসরাইলি সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ আদৌ লাভজনক ছিল কিনা, তা নিয়ে খোদ ইসরাইলের ভেতরেই তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ শুরু হয়েছে। যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল এবং বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু সরকারের কঠোর সমালোচনা করে এক ঊর্ধ্বতন ইসরাইলি কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, এই ব্যয়বহুল যুদ্ধের যৌক্তিকতা আসলে কতটুকু ছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye) এবং ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজ (i24News)-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ঊর্ধ্বতন ইসরাইলি কর্মকর্তা আই২৪ নিউজকে স্পষ্ট ভাষায় জানান, যুদ্ধের বর্তমান রাজনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে আগে ধারণা থাকলে তারা এই অভিযানে যেতেন না।
“অভিযানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা যদি আমরা আগে জানতাম, তবে কোনোভাবেই আমরা এই পথে পা বাড়াতাম না।”
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি সই হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর নিজ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহল থেকে চরম চাপ তৈরি হয়েছে। গত জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো ১২ দিনের এই যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে এখন তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তীব্র অভ্যন্তরীণ সমালোচনার মুখেও গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি এই অভিযানকে ইসরাইলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহুর দাবি ছিল:
অবকাঠামো ধ্বংস: ইসরাইলের এই বিশেষ অভিযানে ইরানের বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়: এই যুদ্ধের ফলে ইরানের অর্থনীতি কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে।
অস্তিত্ব রক্ষা: ইরানের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে জীবনের ব্রত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরাইলকে পারমাণবিক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা।
গত ১৪ জুন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি হওয়ার ঘোষণা দেন, তখন থেকেই ইসরাইলি সমাজের ভেতর শঙ্কা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
চ্যানেল ১৩ নিউজের অভিজ্ঞ সামরিক বিশ্লেষক অ্যালন বেন ডেভিড এই পরিস্থিতিকে ইসরাইলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এটি ইসরাইলের জন্য একটি নাটকীয় দিন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।”
অধিকাংশ সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই যুদ্ধের পরও ইরান উল্টো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত ইসরাইলকে একটি কৌশলগত পরাজয়ের দিকেই ঠেলে দিয়েছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস ভুলবুল আহমেদ
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye) ও আই২৪ নিউজ (i24News)
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |