হরমুজ প্রণালি কি বন্ধ? ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন ঘোষণা ও সম্ভাব্য হামলার হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি জানিয়েছেন, এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথটি আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে এটি এখন আর সবার জন্য ‘উন্মুক্ত’ নয়।
শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাঘচি স্পষ্ট করে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্ট জাহাজ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজগুলো এই রুট দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেহরানের বর্তমান নীতি অনুযায়ী—
নিষিদ্ধ: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন বা তাদের সাথে সম্পর্কিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে পারবে না।
অনুমতি: অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক শিপিং কোম্পানি স্বেচ্ছায় এই এলাকা এড়িয়ে চলছে।
শর্তসাপেক্ষ ‘সেফ প্যাসেজ’: ইতিমধ্যে ফ্রান্স ও ইতালিসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশ তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
আরাঘচি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই হরমুজ প্রণালিকে ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ করার পরিকল্পনা করছে না যতক্ষণ পর্যন্ত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের কোনো তেল স্থাপনা বা রিফাইনারিকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তবে ইরানও পারস্য উপসাগরজুড়ে থাকা মিত্র দেশগুলোর তেল স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালাবে।
ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই জলপথটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত:
জ্বালানি সরবরাহ: বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
অর্থনৈতিক প্রভাব: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে শিপিং ট্রাফিক প্রায় ৭০% হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
সংকীর্ণ পথ: এর সবচেয়ে সরু পয়েন্টটি মাত্র ৩৩ কিলোমিটার চওড়া, যা ইরানকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান) ওই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।
১. টাইমস অব ইসরায়েল: "Iran FM says Strait of Hormuz open to all but US, Israel ships." ২. রয়টার্স ও জে-পোস্ট: আব্বাস আরাঘচির ১৫ মার্চ ২০২৬-এর বিশেষ সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ। ৩. আলজাজিরা মিডল ইস্ট: "Hormuz Strait Crisis: Impact on Global Oil Market 2026." ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ জিও-পলিটিক্যাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের ইরান-মার্কিন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ডাটাবেস।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |