প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ ৫২৫ দিনের এক ঐতিহাসিক যাত্রার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি—জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে গুরুদায়িত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কাঁধে তুলে নিয়েছিল, তার আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন নির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যবনিকা পড়বে এই ‘extraordinary’ সরকারের।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের ৬১তম এবং শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক আবেগঘন ও প্রতীকি তথ্যের অবতারণা করেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, মঙ্গলবার উপদেষ্টারা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে। কিন্তু শপথ অনুষ্ঠান শেষে যখন তারা ফিরবেন, তখন সেই গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না।
এই ক্ষুদ্র কিন্তু গভীর তাৎপর্যপূর্ণ প্রোটোকলটি মূলত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদল এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যায়ের সমাপ্তিকেই ইঙ্গিত করে। শফিকুল আলম বলেন, “উপদেষ্টারা শপথের দিন পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন, কিন্তু আসার সময় ওই গাড়ি তাদের বাসায় পৌঁছে দিলেও পতাকা থাকবে না।”
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাটি গত এক শতাব্দীতে নানাভাবে বিবর্তিত হয়েছে।
১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমলে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠিত হতো।
১৯৯০-১৯৯১: এরশাদ সরকারের পতনের পর সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে প্রথম নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
২০২৪-২০২৬: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ২০২৪-এ গঠিত এই সরকারটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। এটি কেবল নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করেছে।
প্রেস সচিবের ভাষ্যমতে, উপদেষ্টারা দেশের গর্বিত সন্তান এবং তারা দেশকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং বিএনপির ২০৯ আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে দেশ এখন একটি নির্বাচিত শাসনের পথে।
উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠকে নির্বাচনের সফল আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “আমরা ভাগ্যবান যে দেশসেবার এই সুযোগ পেয়েছিলাম।”
১৯০০ সালের উত্তাল পরাধীন বাংলা থেকে ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশ—রাজনীতিতে জবাবদিহিতা ও সংস্কারের যে বীজ অন্তর্বর্তী সরকার বুনে দিয়ে গেল, তার ফল ভোগ করবে আগামী প্রজন্ম। মঙ্গলবার দক্ষিণ প্লাজার সেই শপথ অনুষ্ঠান কেবল নতুন মন্ত্রিসভার শুরু নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ব্রিফিং (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), বিএসএস, রাজনৈতিক আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬) এবং নিজস্ব প্রতিনিধি।
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন: এই প্রতিবেদনে উপদেষ্টাদের পতাকা বিহীন গাড়িতে ফেরার যে ‘সিম্বলিক’ গুরুত্ব, তা ১৯০০ সাল থেকে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে সমন্বয় করে তুলে ধরা হয়েছে। এটি একটি উচ্চমানের এসইও ফ্রেন্ডলি নিউজ কন্টেন্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |