প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৬ সাল এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা এখন তুঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় এই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে আলোচনায় বসবেন। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত থাকবেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ এবং নির্বাচনি মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম। ধারণা করা হচ্ছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করা হবে।
বাঙালির রাজনৈতিক মুক্তি ও ভোটাধিকারের সংগ্রাম আজ থেকে একশ বছরেরও বেশি সময় আগের। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে যখন বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) নিয়ে আন্দোলন তীব্র হয়, তখন থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য লড়েছে। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ছিল সেই সোপান, যার ওপর দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা অর্জন করি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৭১-১৯৯০: স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি দেশের রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়। এরপর কয়েক দশকের সামরিক ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথ ছিল উত্তাল। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে, যা বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব: গত দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ভোটাধিকার হরণের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ঘটে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ তৈরি করা।
২০২৬: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি: ২০২৫ সাল জুড়ে চলা বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়। বর্তমান সিইসি এএমএম নাসির উদ্দীনের অধীনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কাজ করছে কমিশন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৭১): "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।"
জিয়াউর রহমান (১৯৭৭): "জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।"
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (জানুয়ারি ২০২৬): বৈঠকের আগে তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন, "আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই যেখানে প্রতিটি ভোট হবে পবিত্র এবং কোনো অপশক্তি যেন জনআকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করতে না পারে।"
সিইসি এএমএম নাসির উদ্দীন (ডিসেম্বর ২০২৫): "আমাদের একমাত্র লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া, যেখানে কোনো বিতর্ক থাকবে না।"
জাতীয় নাগরিক পার্টির এই বৈঠকটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপি আগামী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে চায়। বিশেষ করে ২০২৪-এর বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে তারা তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে। ১৯০০ সাল থেকে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাঙালি লালন করছে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন তা বাস্তবায়নের একটি বড় সুযোগ।
পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সংস্কার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি খালিদ মাহমুদের উত্তরার প্লটসহ ২৩ একর জমি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র এখন স্বচ্ছতার পথে হাঁটছে।
সূত্র: নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জাতীয় তথ্য বাতায়ন, যুগান্তর এবং বিডিএস ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |