| বঙ্গাব্দ

বাঙালির সংস্কৃতি বিশ্বকে পথ দেখায়: রাজশাহীতে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মনোজ কুমার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-12-2025 ইং
  • 3415020 বার পঠিত
বাঙালির সংস্কৃতি বিশ্বকে পথ দেখায়: রাজশাহীতে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মনোজ কুমার
ছবির ক্যাপশন: মনোজ কুমার


৫২ থেকে ২০২৫: বাঙালির সংস্কৃতি ও মৈত্রীর বন্ধন চিরস্থায়ী, রাজশাহীতে বিজয় দিবসে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জয় নয়, বরং এটি বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অটুট বন্ধুত্বের এক অনন্য দলিল। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে রাজশাহীর ভদ্রা এলাকায় ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই বন্ধুত্বের চিত্রই ফুটে উঠেছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মৈত্রীর অঙ্গীকার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার (রাজশাহী) মনোজ কুমার বলেন, "১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস ও ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। আমরা সেই বীরদের প্রেরণা নিয়েই সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত এবং ভারতের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে সবসময় পাশে আছে।

এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে পঞ্চ প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন মনোজ কুমার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা ও মহানগরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: ভাষা ও সংস্কৃতির বিশ্বজয়

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মনোজ কুমার বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী তাৎপর্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে কয়েক দশকের এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।

  • ১৯৫০-এর দশক ও ১৯৫২: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার প্রথম বড় লড়াই। মনোজ কুমার বলেন, "বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি আজ সারা বিশ্বে একটি শক্তিশালী স্থান করে নিয়েছে।" তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং অমর্ত্য সেনের মতো ব্যক্তিত্বদের অবদান স্মরণ করে বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি পুরো বিশ্বকে অনেক কিছু দিয়েছে।

  • ১৯৭১ ও ২০২৫: ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে তা আরও পরিপক্ক মৈত্রীতে রূপ নিয়েছে। ভারতের এই কূটনীতিকের মতে, বাংলাদেশ ও ভারত কেবল প্রতিবেশী নয়, বরং ‘এগিয়ে চলার বন্ধু’।

সাংস্কৃতিক আয়োজন ও বিশিষ্টজনের বক্তব্য

আলোচনা সভা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দেশাত্মবোধক গান ও বিশেষ নাটক মঞ্চস্থ হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খোকা, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ এবং আরএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (বোয়ালিয়া) নাসিদ ফরহাদ। এ সময় রাজশাহীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।


বিশ্লেষণ: ১৯৫০-এর দশকে যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক চেতনা বাঙালির মনে দানা বেঁধেছিল, ১৯৭১ সালে তা স্বাধীনতার স্বাদ পায়। ২০২৫ সালের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের এই ‘পিপল টু পিপল’ কানেক্টিভিটি বা জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহীতে ভারতীয় হাইকমিশনের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ আসলেও দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন এখনও অটুট। বিশেষ করে বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কার ও উন্নয়ন যাত্রায় ভারতের সমর্থন মৈত্রীর এক নতুন অধ্যায় সূচনা করছে।

সূত্র: ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন (রাজশাহী) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, রাজশাহী ব্যুরো নিউজ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency