নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর পল্টন ও শাহজাহানপুর থানায় দায়ের করা নাশকতার দুই মামলা থেকে চূড়ান্ত অব্যাহতি পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ ৪৫ জন শীর্ষ নেতা। দীর্ঘ ১৩ বছর পর বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এই আদেশ দেন। নির্বাচনের ঠিক আগে বিএনপি নেতাদের এই আইনি স্বস্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে শান্তিনগর ও মালিবাগ এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশের কাজে বাধা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পল্টন ও শাহজাহানপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছিল। বুধবার মামলার চার্জগঠন শুনানির দিনে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
অব্যাহতি প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (স্থায়ী কমিটির সদস্য)
আবদুল্লাহ আল নোমান (ভাইস চেয়ারম্যান)
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (উপদেষ্টা)
সাইফুল আলম নীরব (ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী)
হাবিব উন নবী খান সোহেল ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন আর আইনি লড়াই একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৫০-১৯৭০: পাকিস্তান আমলে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ শত শত নেতার বিরুদ্ধে অসংখ্য রাষ্ট্রদ্রোহী ও নাশকতার মামলা দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, "সে সময়কার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল তৎকালীন বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।"
নব্বইয়ের দশক: ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ও তৎকালীন ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে নাশকতার শত শত মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০২৪-২০২৫): ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। ২০২৫ সালের বর্তমান সরকার ও আদালত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে রায় দিচ্ছে। মির্জা আব্বাস ও অন্যান্য নেতাদের এই অব্যাহতিকে আইনজীবীরা ‘ন্যায়বিচারের প্রতিফলন’ হিসেবে দেখছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শান্তিনগরে পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ ও মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সে সময় পুলিশের ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। যদিও দীর্ঘ এক দশকে তদন্তকারী কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই একই মামলাগুলো থেকে আগেই অব্যাহতি পেয়েছিলেন সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
বিশ্লেষণ: ২০২৫ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে মির্জা আব্বাসের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে। ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক নিপীড়নের যে ধারা বাংলাদেশে চলে আসছিল, বর্তমান বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় এই ধরণের অব্যাহতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের যে দাবি উঠেছে, এই রায় তারই প্রতিফলন।
সূত্র: ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রেকর্ড, যুগান্তর ডিজিটাল ও বিডিএস নিউজ আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |