বাজারে ১ লাখ টন মজুত, তবুও পেঁয়াজের দাম ১৬০ টাকা: সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অস্থির বাজার, নীরব প্রশাসন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়া এবং এখনো দেশে এক লাখ টনের বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত থাকার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির বাজার এখন লাগামহীন। অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে এবং এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে ভোক্তার পকেট কেটে বাড়তি মুনাফা করছে। সর্বশেষ দুই দিনে কেজিপ্রতি ৩০-৫০ টাকা বাড়িয়ে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) জানিয়েছে, কারসাজির মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং এই সময় প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৯০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ খুচরা বাজারে তা দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর এই সময়ে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এবারও তারা অক্টোবর মাস থেকে সেই ছক তৈরি করেছে। তারা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজ আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং সরকারকে আমদানির অনুমতি দিতে চাপ দিচ্ছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, "পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে। তারা পেঁয়াজ কিনে মজুত করছে, বাজারে ছাড়ছে না। দেশে ভালো উৎপাদন হলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা করছেন।"
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীনও এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "প্রকৃতপক্ষে বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। আমদানির অনুমতি দিতে সরকারকে বাধ্য করতেই সিন্ডিকেটচক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। অথচ এখনো এক লাখ টনেরও বেশি পুরোনো পেঁয়াজ আছে।"
মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।
| বাজার এলাকা | ৬ ডিসেম্বরের খুচরা দর (কেজি) | দুই দিন আগের দর (কেজি) |
| রামপুরা কাঁচাবাজার | সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা | সর্বোচ্চ ১১০ টাকা |
| কাওরান বাজার | ১৫০ টাকা | - |
| নয়াবাজার | ১৪০ টাকা | - |
| জিনজিরা কাঁচাবাজার | ১৪০-১৬০ টাকা | - |
পাইকারি বাজারেও দামের চিত্র একই রকম। রাজধানীর সর্ববৃহৎ পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারে প্রতিপাল্লা (৫ কেজি) পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা (কেজিপ্রতি ১২০ টাকা)। অথচ চার দিন আগেও এর দাম ছিল ৭০-৮০ টাকা। অক্টোবরের শেষদিকে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা ও সেপ্টেম্বরে ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. ইমদাদুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পেঁয়াজ নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। বাজারে পেঁয়াজ থাকার পরও বিক্রেতারা এক মাস ধরে বাড়তি দামে বিক্রি করছে। এখন এক লাফে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দেখার কেউ নেই।"
কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়লেও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির সুপারিশ করেছে। খুচরা বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের বিবেচনার জন্য বাণিজ্য সচিব ও কৃষি সচিবকে পাঠিয়েছে।
বিটিটিসি জানায়, কিছু মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থির করার পাঁয়তারা করছে। পার্শ্ববর্তী দেশে একই পেঁয়াজের দাম যেখানে বর্তমানে ৩০ টাকার মধ্যে, সেখানে দেশে তা ১১৫ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন সতর্ক করে বলেন, এই সময়ে বাজারে নজরদারি না বাড়ালে ভোক্তার পকেট কাটা যাবে এবং মৌসুমে আমদানি হলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এদিকে, শ্যামবাজারের এক আড়তদার হেদায়াত উল্লাহ পেঁয়াজের সংকট রয়েছে দাবি করে সরকারকে আমদানির অনুমতি দিতে আহ্বান জানান, যদিও কৃষি অধিদপ্তর এই সংকটের কথা অস্বীকার করেছে। কিছুদিন পরই নতুন পেঁয়াজে বাজার ভরপুর থাকবে বলে জানা গেছে।
১. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ড. জামাল উদ্দীন)।
২. বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)।
৩. কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।
৪. রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও শ্যামবাজারের আড়তদার ও ভোক্তাদের বক্তব্য (৬ ডিসেম্বর ২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |