| বঙ্গাব্দ

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার: সতর্কবাণী এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকম্পের সম্ভাবনা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-11-2025 ইং
  • 3798842 বার পঠিত
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার: সতর্কবাণী এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকম্পের সম্ভাবনা
ছবির ক্যাপশন: ভবিষ্যৎ ভূমিকম্পের সম্ভাবনা

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার: আরও বড় ভূমিকম্পের সতর্কবাণী

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ


ভূমিকম্পের সতর্কবাণী

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প শুধুমাত্র একটি সতর্কবাণী, যা আরও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়। তিনি বলেন, “এখন সামনে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে, আজকের এই ভূমিকম্প সেই সতর্কবাণী দিচ্ছে। প্লেট যেটা আটকে ছিল, সেটি খুলে যাচ্ছে।”
অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার আরও বলেন, “এই অঞ্চলের ভূমিকম্পের শক্তি ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার হতে পারে, এবং এই শক্তি মুক্তি পেতে হলে আরও ভূমিকম্প হতে হবে।”


৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প

শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এটি বাংলাদেশে গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, এবং এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও অনুভূত হয়েছে।

শক্তির মুক্তি এবং ভবিষ্যত প্রবণতা

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, “এই ভূমিকম্পের শক্তি মুক্তি পাওয়ার পর ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, “বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল বার্মা প্লেট এবং পশ্চিমাঞ্চল ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হয়ে ছিল। আজকের ভূমিকম্প সেই শক্তির একটি অংশ মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু বাকী শক্তি এখনো জমা হয়ে আছে।”


শক্তি জমা হওয়ার জন্য সতর্কতা

অধ্যাপক আরও বলেন, “ভাগ্য ভালো যে, এটি ৭ বা সাড়ে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়নি, তবে শক্তির সঞ্চয় অনেক বেশি, এবং ভবিষ্যতে ৮-৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে।” তার মতে, “এটি একটি বড় শক্তির মুক্তির অঙ্গীকার, এবং আরও বড় ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।”


ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রস্তুতি

ভূমিকম্পের কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ভবনগুলিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল এতই যে, অনেক ভবনেও ফাটল দেখা গেছে।

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, “ভূমিকম্পের সময় কীভাবে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া যায়, সেই বিষয়ে মহড়া দেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে মানুষকে সতর্ক ও প্রস্তুত করতে হবে।”


উপসংহার

আজকের ভূমিকম্প আমাদের সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। দেশের ভূমিকম্পপ্রবণতা এবং এর প্রতিকূলতা মোকাবেলায় সরকার ও জনগণকে আরও বেশি সচেতন থাকতে হবে এবং প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শক্তির সঞ্চয় হতে থাকা প্লেটগুলির গতিবিধি নজরদারি এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।


সূত্র

  1. “Bangladesh Earthquake: A Warning for the Future.” The Daily Star. (thedailystar.net)

  2. “Professor Humayun Akhtar’s Analysis on the 2025 Bangladesh Earthquake,” Bangladesh News. (bangladeshnews.com)

  3. “Seismic Activity in Bangladesh: Impacts and Predictions.” ArXiv. (arxiv.org)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency