প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নিয়ে আবারও তীব্র সমালোচনা করলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন—ওবামা “কিছুই করেননি”, বরং “আমাদের দেশ ধ্বংস করেছেন”।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,
“ওবামা কিছুই না করে নোবেল পেয়েছিলেন। তিনি জানতেনই না কেন এটা পেলেন। তিনি শুধু নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারা ওবামাকে এটি দিয়েছে আমাদের দেশকে ধ্বংস করা ছাড়া একেবারে কিছুই না করার জন্য।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি, আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি—কিন্তু আমি কোনো পুরস্কারের আশায় তা করিনি।”
খবর: এনডিটিভি, নিউইয়র্ক টাইমস
২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট পদে আসার মাত্র আট মাস পরই বারাক ওবামা নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। সেই সময় নরওয়ের নোবেল কমিটি জানায়, “আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি” বিবেচনায় এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
তবে এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তখন লিখেছিল,
“এই স্বীকৃতি ছিল অত্যন্ত আগাম। ভবিষ্যৎ কর্মের জন্য নয়, বরং প্রত্যাশার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওবামার প্রশাসন আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়া যুদ্ধ থেকে সরে না এসে বরং নতুন সামরিক উপস্থিতি বাড়ায়, যা শান্তি পুরস্কারের ভাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জানুয়ারিতে আবার ওভাল অফিসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প নরওয়ের Peace Research Institute Oslo (PRIO)—যা নোবেল কমিটিকে প্রার্থী মূল্যায়নে সহায়তা করে—এর সঙ্গে নিজের অর্জন তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।
হোয়াইট হাউস সূত্র অনুযায়ী, ট্রাম্প তার টিমকে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর মধ্যপ্রাচ্য চুক্তি (ইসরাইল–সৌদি আরব সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ), আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার, ও কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রচেষ্টার বিষয়গুলো “নোবেল কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ” করার জন্য আলাদা রিপোর্টে পাঠাতে।
তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন,
“আমি কখনও কোনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য কিছু করিনি। আমি যা করেছি, তা বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধ ও আমেরিকাকে আবার সম্মানের জায়গায় ফিরিয়ে আনার জন্য।”
| বিষয় | বারাক ওবামা | ডোনাল্ড ট্রাম্প |
|---|---|---|
| নোবেল জয় | ২০০৯ সালে শান্তিতে নোবেল | এখনো পাননি, তবে নিজেকে মনোনীত মনে করেন |
| মূল যুক্তি | “পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে দৃষ্টিভঙ্গি” | “গাজায় শান্তি ও আট যুদ্ধের অবসান” |
| সমালোচনা | “অত্যন্ত আগাম সিদ্ধান্ত” – NYT | “নিজেকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন” – Washington Post |
ওবামার পুরস্কারপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের অভিযোগ পর্যন্ত—নোবেল শান্তি পুরস্কার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন ক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হেনরি উইলসন (Columbia University) বলেন,
“ট্রাম্প মূলত ওবামার নোবেল জয়কে নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তরাধিকারের প্রশ্নে ব্যবহার করছেন। এটি মার্কিন অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তার জন্য কৌশলগত ভাষ্য।”
তিনি আরও বলেন,
“নোবেল কমিটি সবসময় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখে, তবে ট্রাম্পের বক্তব্য মার্কিন ‘অ্যান্টি-এলিট’ ভোটারদের মনোভাবকেও প্রতিফলিত করে।”
দ্য গার্ডিয়ান ও BBC World প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে—ট্রাম্পের মন্তব্য আবারও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
নরওয়ের নোবেল কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন,
“নোবেল পুরস্কার কোনো প্রেসিডেন্টের কর্মঘণ্টা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের স্বীকৃতি।”
এদিকে ট্রাম্পের দাবি, “ওবামা কিছুই করেননি”—এ বক্তব্য বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ট্রল তৈরি করেছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ওবামা ও ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতির নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
ওবামার পুরস্কারপ্রাপ্তি যেখানে এক সময় আশা ও প্রত্যাশার প্রতীক ছিল, সেখানে ট্রাম্পের অভিযোগ—নোবেলকে “রাজনৈতিক পক্ষপাতের পুরস্কার”—এখন সেটিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ার করে তুলেছে।
NDTV World — “Trump mocks Obama’s Nobel Peace Prize: ‘He destroyed our country’”, ১০ অক্টোবর ২০২৫
The New York Times — “Obama’s early Nobel Prize still controversial years later”, আর্কাইভ প্রতিবেদন
BBC News / Reuters — “Trump claims he ended ‘eight wars’, questions Nobel criteria”, ৯ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |