বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি সরানোর নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এই নির্দেশনা মৌখিক হলেও, ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি দূতাবাস রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলেছে। অনেক মিশন জানায়, তারা গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই এসব ছবি সরিয়ে ফেলেছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি। রোববার (১৭ আগস্ট) এক সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, তবে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো সংক্রান্ত প্রশ্ন এড়িয়ে যান। একইভাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাহ আসিফ রহমানও এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
প্রশ্ন উঠেছে—সরকার পরিবর্তনের এক বছরেরও বেশি সময় পর কেন হঠাৎ করে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর নির্দেশনা এলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রপতি কি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানানোর বাধ্যবাধকতা আছে। রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানানো দীর্ঘদিনের একটি রেওয়াজ ছিল, কিন্তু এখন থেকে ‘কারও ছবি থাকবে না’—এমন নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশে অনেক দূতাবাস থেকে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি সরানো হয়েছিল। তবে বাকি মিশনগুলো থেকে ছবিগুলো সরাতে দেরি হওয়ায় নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি দেখতে পান বলে আলোচনা হয়। এ নিয়েই নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শোনা যায়, ১১ আগস্ট রাষ্ট্রীয় সফরে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জেনেভা দূতাবাসে রাষ্ট্রপতির ছবি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও তিনি নিজে পরে গণমাধ্যমে বলেছেন, “আমি কোনো ছবি দেখিনি বা মন্তব্য করিনি।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ৮২টি মিশন ও উপমিশন রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াশিংটন, দিল্লি ও বেইজিংসহ ৬৫টিরও বেশি মিশনে গত বছর থেকেই রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো হয়েছিল। এখন অবশিষ্ট মিশনগুলো থেকেও সরানোর কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক রেওয়াজ ভাঙার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। ক্ষমতার পরিবর্তন ও প্রশাসনিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় সরকারের নতুন নীতির প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম প্রতিবেদন (আগস্ট ২০২৫)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |