আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষায় জাতীয় সংহতির আহ্বান: সন্তু লারমার লিখিত বার্তা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সকল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শনিবার (৯ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারা সন্তু লারমার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পল্লক চাকমা।
লিখিত বক্তব্যে সন্তু লারমা বলেন,
“ভূমি থেকে উচ্ছেদ, নারী নিপীড়ন, বৈষম্য ও বিচারহীনতার কারণে আদিবাসীরা ক্রমেই প্রান্তিক হয়ে পড়ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমেও আদিবাসী নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো সংলাপ হয়নি। ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ও শঙ্কাময়।”
তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীরা এখনও হুমকির মুখে বসবাস করছে। স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে তারা ভূমিহীন ও দেশান্তরী হয়ে পড়েছে। ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি, বরং নতুন নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।
সন্তু লারমা বলেন,
“পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই জোরদার করতে হবে। গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রগতিশীল আদর্শের বিকল্প নেই।”
এ বছরের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য—‘আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বার্থক প্রয়োগ’—উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার আদিবাসীদের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তবে নেতিবাচক দিকগুলো কাটিয়ে ওঠা জরুরি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের বিমাতাসুলভ আচরণের পরিবর্তন হয়নি। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ৫০টিরও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় উপেক্ষা করা হচ্ছে।
বক্তাদের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো—
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সময়সীমাভিত্তিক রোডম্যাপ ঘোষণা
সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে বিকৃত বা মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধ
নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ ও সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার
জাতিসংঘের আদিবাসীবিষয়ক ঘোষণাপত্র (২০০৭) এবং আইএলও কনভেনশন ১৬৯ অনুসমর্থন ও কনভেনশন ১০৭ বাস্তবায়ন
১৯৫০–১৯৭১: তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাহাড়ি ও সমতলের আদিবাসীরা ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে।
১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু আদিবাসী স্বাধীনতার পক্ষে লড়লেও রাষ্ট্রগঠনের আলোচনায় তাদের ভূমিকা উপেক্ষিত হয়।
১৯৭৫–১৯৯৬: পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘাত ও সামরিকীকরণ—আদিবাসীদের ভূমি হারানো এবং বাস্তুচ্যুতি ত্বরান্বিত হয়।
১৯৯৭: আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
২০০০–২০২৩: আংশিক বাস্তবায়ন হলেও চুক্তির বেশিরভাগ ধারাই থেকে যায় অপূর্ণ, ফলে অসন্তোষ বজায় থাকে।
২০২৪–২০২৫: জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার আলোচনায়ও আদিবাসী নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি—যা বর্তমান অসন্তোষের বড় কারণ।
রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি জরুরি: আদিবাসী নেতৃত্বকে জাতীয় নীতি ও সংস্কার আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত না করলে বৈষম্য কমবে না।
পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন: দীর্ঘসূত্রতা আদিবাসীদের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা বাড়াচ্ছে।
প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আদিবাসী উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে, তবে সংস্কৃতি ও ভাষার ক্ষতি রোধে পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা: আইএলও ও জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে দায়বদ্ধ করবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৫-এর অনুষ্ঠান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নথি ও পূর্ববর্তী বিবৃতি
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |