আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে পাকিস্তান: চামান সীমান্তে হাজারো মানুষের ভিড়
প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: এএফপি, আলজাজিরা, ডন নিউজ
ফের নতুন করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ: ইসলামাবাদের হুঁশিয়ারি
পাকিস্তান সরকার আফগান শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য ফের নতুন করে আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার (২ আগস্ট) এই ঘোষণার পর চামান সীমান্তে হাজার হাজার আফগান নাগরিক জড়ো হয়েছেন।
এই পদক্ষেপ ২০২৩ সালে শুরু হওয়া বিতাড়ন অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অভিযানটি আবারও জোরালোভাবে শুরু হয়েছে।
সরকার বলছে: "সম্মানজনক ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসন চাই"
বেলুচিস্তানের কোয়েটায় কর্মরত সিনিয়র কর্মকর্তা মেহের উল্লাহ বলেন,
“স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মানজনক ও সুশৃঙ্খল উপায়ে আফগান নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।”
চামান সীমান্তে আরেক কর্মকর্তা হাবিব বিংগালজাই জানান:
“শুক্রবার ৪ থেকে ৫ হাজার আফগান দেশ ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।”
পরিসংখ্যান: এক বছরের মধ্যে ১০ লাখের বেশি আফগান দেশ ছেড়েছে
-
২০২৩ সাল থেকে: ১০ লাখেরও বেশি আফগান পাকিস্তান ছেড়েছে
-
শুধুমাত্র এপ্রিল ২০২৫-এর পর: ২ লাখের বেশি আফগান ফেরত গেছেন
-
লক্ষ্য: ৮ লাখ আফগান যাদের অস্থায়ী আবাসিক অনুমতিপত্র ছিল
এদের মধ্যে বহু মানুষ পাকিস্তানেই জন্মেছেন বা কয়েক দশক ধরে বাস করছেন।
বিতাড়নের কারণ: নিরাপত্তা ইস্যু ও সন্ত্রাসবাদ
পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে,
“২০২৩ সালে দেশটিতে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যাতে আফগান নাগরিকদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই সরকার আবাসিক অনুমতিপত্র বাতিল করে ও চলমান ধরপাকড় শুরু করে।
🇮🇷 ইরানও একই পথে: ১৫ লাখ আফগান ফেরত
শুধু পাকিস্তান নয়—ইরানও বড় পরিসরে আফগানদের দেশে ফেরত পাঠানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ১৫ লাখের বেশি আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্বেগ
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR), হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠন এই ‘জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের’ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
তারা বলছে:
“আফগানিস্তানে এখনো নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এখন লোকজনকে ফেরত পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন