প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৫ |
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নতুন দফায় হামলায় অন্তত ১১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের মধ্যে ৯২ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, যাঁরা খাদ্য সহায়তা গ্রহণের অপেক্ষায় ছিলেন। এই ঘটনা গাজার উত্তরের জিকিম (Zikim) চেকপয়েন্টে ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই নারী, পুরুষ ও শিশু।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের রাফাহ ও খান ইউনিসে ত্রাণ বিতরণ পয়েন্টে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আরও ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ১৯ জন ফিলিস্তিনি।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগগুলো অভূতপূর্ব সংখ্যক অপুষ্টি–আক্রান্ত রোগীতে উপচে পড়ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সামাল দিতে কার্যত অক্ষম হয়ে পড়েছেন।
২০২৫ সালের ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি অবরোধের কারণে গাজায় কোনো আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রবেশ করেনি। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরাইল “গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফান্ড (GHF)” নামে একটি বিতরণ প্রক্রিয়া চালু করে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে পরিচালনা করছে।
তবে মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ এই বিতরণ পদ্ধতিকে ‘মানব জবাইখানা’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ বলে উল্লেখ করেছে। কারণ, সহায়তা নিতে আসা মানুষদের ওপরই চলে হামলা ও হত্যাকাণ্ড।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, GHF কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে ত্রাণ নেওয়ার জন্য আসা অন্তত ৯০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
১৮ মে ২০২৫ থেকে ইসরাইল গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া চলমান আগ্রাসনে মোট নিহত: ৫৮,৮৯৫ জন, আহত: প্রায় ১,৪০,৯৮০ জন।
এদিকে আলাদা এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অফিসে যাওয়া বন্ধ রেখেছেন। এই তথ্য প্রকাশের পর ইসরাইলি নেতৃত্বের শারীরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
এই ঘটনার পর জাতিসংঘ, রেড ক্রস ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো ফের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে, “ইসরাইলের অবরোধ ও হামলা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে”।
বিশ্লেষকরা বলছেন, "GHF-এর বিতরণ পয়েন্টগুলো যেন পরিকল্পিত হত্যার ফাঁদ—মানুষ সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাদ্য নিতে যায়, ফিরে আসে লাশ হয়ে।"
আপনার মতামত জানান:
এই অবরোধ ও সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আপনি মনে করেন? নিচে মন্তব্য করে জানাতে পারেন আপনার অভিমত।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |