নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম | ১২ জুলাই ২০২৫
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ২০২৫ সালের এসএসসি, সমমান ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, পাসের হার কিছুটা কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে, যা এই অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি নতুন ইতিবাচক ইঙ্গিত।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবছর ৭ হাজার ৮১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ হাজার ৭৭৭ জন পাস করেছে। মাধ্যমিকে পাসের হার ৭২.৯২ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৭৯.০৩ শতাংশ এবং ভোকেশনালে ৮০ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৮২.২৩ শতাংশ।
২০২৫ সালে ৪৫৯ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
উপজেলায় শীর্ষস্থান দখল করেছে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৬ জন পাস করেছে এবং ১২২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৯১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৩১ জন।
বিদ্যালয়ের পাশের হার ৯৮.৪০ শতাংশ। প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল আজিজ জানান, “শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতে শতভাগ পাসের লক্ষ্যে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়: ২৮৩ জন অংশগ্রহণ, পাস করেছে ২৩৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮২ জন। পাশের হার ৯৮%।
চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল: ৩০২ জনের মধ্যে ২৮৫ জন পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৫ জন। পাশের হার ৯৪.৩৭%।
তবে ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেউই জিপিএ-৫ পায়নি। এসব স্কুলের মধ্যে রয়েছে: ইউনিয়ন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়, কাশিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়, হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, বারৈকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি।
এবার ২২টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯০৪ জন, পাস করেছে ৭১৬ জন। কিন্তু জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৮ জন! যার মধ্যে ১৬টি মাদ্রাসায় কেউই জিপিএ-৫ পায়নি।
কয়েকটি মাদ্রাসায় সীমিতসংখ্যক জিপিএ-৫:
মেহের আটি হযরত নুরুদ্দিন শাহ দাখিল মাদ্রাসা: ৩৮ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন
শেয়ান পাড়া হাজী আবদুল খালেক আরিবিয়া দাখিল মাদ্রাসা: ২৬ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন
শাহচাঁন্দ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসা: ৯৭ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন
ওকন্যারা মুহাম্মদীয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসা: ২৯ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন
হাইদগাঁও মোজাহেরুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা: ৫৩ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন
শিক্ষাবিদদের মতে, মাদ্রাসা পর্যায়ে মানোন্নয়ন কার্যক্রম ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জরুরি, নইলে এই ধারা রোধ করা কঠিন হবে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬টি প্রতিষ্ঠানে ২৮৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, এর মধ্যে পাস করেছে ২৩০ জন, অর্থাৎ পাসের হার ৮০ শতাংশ। এটি ভোকেশনাল শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও মানোন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক মুহাম্মদ মাহফুজুল আলম বলেন:
“বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানদানের পাশাপাশি পরীক্ষার কৌশল, উপস্থাপন ভঙ্গি, বানান ও বাক্যগঠনে মনোযোগী করতে আমরা প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেই।”
পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বাবুল চন্দ্র নাথ বলেন:
“চলতি বছর পাসের হার কিছুটা কমলেও ৪৮৩ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়া এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এটি একটি রেকর্ড। আমরা আগামী বছরগুলোতে মানোন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।”
পটিয়ার শিক্ষা পরিস্থিতি বলছে, স্কুল পর্যায়ে মানোন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষায় উন্নয়ন এখনো দুরূহ। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা ক্রমেই আগ্রহ অর্জন করছে। প্রশাসনের নজরদারি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়ালে আগামীতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষাক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন সম্ভব।
তথ্যসূত্র: উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, বিদ্যালয় প্রধান, ফলাফল বিশ্লেষণ কমিটি
প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন | শিক্ষা বিভাগ | ১২ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |